পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে মাসায়ালা, না জানলে মিস করবেন

শুরুতেই সকলকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। আগামীকাল সকালে নিশ্চয়ই ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নামাজে যাবেন। আমিও যাব। এর মধ্যেই তো রয়েছে আনন্দ। নামাজের পরে এলাকার বড় ছোট সবভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বন্ধুর বেশে একজন আরেকজনের সাথে কোলাকুলি করব। আহ কত্ত মজা তাইনা। ইসলামের এক দারুন ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন। কারো সাথে যদি কোন ঝগড়া বিবাদ থেকে থাকে, এ দিনে আমরা সব ভুলে আবার নতুন করে ভাই ভাই হয়ে যাব তবেই হতে পারব স্রষ্টার একজন প্রিয় বান্দা। কুববানীর ঈদের কিছু কমন বিষয় আপনাদের সামনে উপসথাপন করতে চাচ্ছি। বিষয়গুলো যদিও সবার জানা তারপরেও একটু স্মরন করিয়ে দিচ্ছি মাত্র।
১. কোরবানীর জন্য গরু বা ছাগল কিছু একটা তো কিনেছেন। আপনার ক্রয়কৃত পশুটি নিখুঁত বা কোরবানীর জন্য নির্ধারিত বয়স হয়েছে তো। অবশ্যই দেখে নেয়া দরকার।
২. যেহেতু আল্লাহ ইব্রাহিম আ: কে বলেছিলেন প্রিয় বস’ কোরবানী করতে। যদি সম্ভব হয় পশুটিকে একটু আদর করে ভালবাসা সৃষ্টি করুন।
৩. যদি ভাগের গরু হয়ে থাকে অবশ্যই সকলে যেন এক আল্লাহর সন’ষ্টির জন্য কোরবানী করে। মাংসের চাহিদা পূরন বা কোরবানী না করলে লোকে কি বলবে এই জাতীয় নিয়্যত যেন ভাগিদারদের মনে একবারো না আসে। বিষয়টি কিন’ খুব গুরুত্বপূর্ন।
৪. যদি পারেন আপনি গোসল করার পূর্বে গরুটিকে একটু ধুঁয়ে মুছে পরিস্কার করুন। যদি খিঁদে পায় পানিসহ কিছু খেতে দিন।
৫. এবার তো নামাজে যাওয়ার সময় হল।  “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাললহু অল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার অলিল্লাহিল হামদ” উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে বলতে যাবেন। এই তাকবীর ৯ই জ্বিলহজ ফজরের নামাজের পরে থেকে শুরু করে ১৩ই জিলহজ্ব আসর পর্যনত্ম প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে পড়বেন। এটি পড়া ওয়াজিব। আর নামাযের পরে প্রথমে কোরবানীর পশুর মাংশ খাওয়া সুন্নত।
৬. ঈদের নামাজ বছরে দুবার তাই নিয়মটা মনে রাখা বেশ কষ্টকর। একটু আগে গিয়ে ঈমাম সাহেব যে পদ্ধতি বলে সেটা শুনুন। নিয়ত হচ্ছে, ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সহিত এই ঈমামের পিছনে আদায় করচ্ছি আল্লাহু আকবর।
৭. প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেব তিনটি তাকবীর (আল্লাহু আকবর) দিবে। প্রত্যেক তাকবীরের সময় হাত ছেড়ে দিবেন এবং চতুর্থ তাকবীরে আল্লাহু আকবর বলে হাত বাঁধবেন নামাজ শুরু করবেন। আবার ২য় রাকাতে এসে সূরা ফাহিতা ও অন্য সূরা পরার পরে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত তিন তাকবীর দেয়া হবে। এখানেও প্রত্যেক তাকবীরে হাত ছেড়ে দিবেন। ৪র্থ তাকবীরে রুকুতে যাবেন। এরপর আবার স্বাভাবিক নামাজ। বিষয়টি না বুঝলে আবার ভালোভাবে পড়-ন।
৮. জামাত শেষে চলে আসা ঠিক হবে না কেননা খুতবা শোনা ওয়াজিব। মোনাজাতের পরে পরিচিতজনদের সাথে কোলাকুলি করুন। ডানপাশে আগে করা সুন্নত।
৯. আল্লাহর সন’ষ্টির জন্য পশু কোরবানী করলেন। একা খেলে কোরবানীর হয়তো কোন ক্ষতি হবে না, কিন’ একা খাওয়া কি ঠিক হবে। হাদীসে আছে, “হাশরের দিন আল্লাহ তার বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, আমি তৃর্ণার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে পানি পান করাওনি। আমি ক্ষুদার্ত ছিলাম তোমরা আমাকে খাদ্য দাওনি। আমি রোগাক্রানত্ম ছিলাম, তোমরা আমার সেবা করনি”। অতএব, আমাদের গরীব আত্মীয়স্বজন ও আশেপাশে যারা গরীব তাদেরকে কিছু দিয়ে খাওয়াটাই উত্তম নয়কি!
১০. আনন্দ উপভোগ করুন ভাল একজন মুসলিমের বেশে। আনন্দের নামে আমরা গুনাহের কাজ না করি। আর অবশ্যই আনন্দের সাগরে ভাসতে ভাসতে যেন জোহরের নামাজ মিস না করি।

এখন বলছি মাসালার বাইরে কিছু কথা। বন্ধুদের কাছে ম্যাসেজ দিবেন না! এই লিংকে কিছু ম্যাসেজ লিখেছি। দরকার হলে দেখতে পারেন। আজ এ পর্যনত্ম, সকলের শুভ কামনায় বিদায় নিচ্ছি। ঈদ মোবারক।
আজ এই ব্লগটি আমার ব্লগ সাইটেও লিখেছি, মন চাইলে একবার ঘুরে আসতে পারেন আমার ব্লগ।

 

Facebook Twitter Delicious Digg Stumbleupon Favorites More

Bangla video tutorial


বিজ্ঞাপন

© 2017 নেক্সট বরিশাল ব্লগ । সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত । তৈরি করেছে নেক্সট বরিশাল । ডিজাইন করেছেন আল-আমিন হোসেন ।